ভ্রমণ কাহিনী - স্লভেনিয়া লেখকঃ তাসকিন ফাহমিনা

স্লভেনিয়া

স্লভেনিয়ার যুব সংগঠন ‘ইয়ুথ নেটওয়ার্ক মামা’র আমন্ত্রনে দেশটিতে সমবেত হয়েছিলো রাজনৈতিক ও মানবাধিকার কর্মীরা । গত ২০ থেকে ২৬ মে পর্যন্ত এই সফরে বাংলাদেশ, নেপাল ও ফিনল্যান্ড থেকে  সংগঠনটি পাঁচজন করে প্রতিনিধিকে আমন্ত্রন জানিয়েছিল। সফরের মুল উদ্দেশ্য ছিল স্লভেনিয়ার তরুণদের জন্য কি কি কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে তা জানানো। একই সাথে দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতি, শ্রমিক, বিশেষত কয়লা শ্রমিকদের পরিস্থিতি সহ দেশটি সম্পর্কে জানানো। এই সফরে তরুন রাজনৈতিক কর্মী ও মানবাধিকার কর্মীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

মনটা খারাপ লাগছিল, কারন আমার সহকর্মী আরও চারজন বাংলাদেশি মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবীর যাওয়ার কথা থাকলেও ভিসা সংক্রান্ত অদ্ভুত জটিলতার কারণে তাঁদের হাতে পাসপোর্ট এসে পৌঁছেনি যাওয়ার আগের দিন পর্যন্ত ।তাই আমাকে একাই রওনা হতে হল ।

যাহোক ১৯ মে সকালে রওনা হলাম শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর এর উদ্দেশে। সকাল ১০টা ২০ এ ফ্লাইট। স্লোভেনিয়ার রাজধানী লুব্লিয়ানার জোসে পুকনিক এয়ারপোর্ট এ পৌঁছে গেলাম ২০ তারিখ স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টা নাগাদ । বড় লম্বা ছিল ফ্লাইটটি! নেপালের বন্ধুরাও এসে পৌঁছেছে। এয়ারপোর্ট এ অপেক্ষা করছিল ইয়ুথ নেটওয়ার্ক মামা’র ডিরেক্টর মায়া। এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে দেখি চারদিকে ঝলমলে আবহাওয়া! মায়া হেসে বলল, গতকালও ঠাণ্ডা ছিল , আর আজ আপনারা দক্ষিন এশিয়ার ঝলমলে রোদ নিয়ে আসলেন! আমাদের থাকাকালিন সাতটি দিনই ছিল আলোকিত ও উষ্ণ । এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে মায়া আমাদের পরতরয (Portorož) এ নিয়ে সমুদ্র দেখিয়ে আনবে বলে জানাল। পরতরয এ বাসে যেতে লাগে প্রায় দেড় ঘণ্টা । সমস্ত পথ স্লভেনিয়ার অপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্য আমাকে মোহাবিষ্ট করে ফেলল। লম্বা ফ্লাইট এর সমস্ত ক্লান্তি দূর হয়ে গেল! সবুজ পাহাড় , মালভূমি , পাহাড়ের পাদদেশে সাজানো ঘরবাড়ী , কোথাওবা ঘন জঙ্গল – এত সবুজ , আর নীল আকাশ- প্রকৃতি যেন অকৃপণ হাতে ঢেলে দিয়েছে এই ছোট্ট দেশটিকে। স্লভেনিয়ার আয়তন মোটে ২০২৭৩ বর্গ কিলোমিটার , জনসংখ্যা ২০ লক্ষ । ১৯৯১ সনে দেশটি প্রাক্তন ইয়ুগস্লাভিয়া থেকে স্বাধীন হয়। এই দেশে ২১২ টি মিউনিসিপালটি রয়েছে যা জেলা ও লোকাল কমিউনিটি দ্বারা বিভক্ত । এই দেশের প্রধান ভাষা স্লভেন ।

পরতরয পিরান(piran) মিউনিসিপালটি অন্তর্ভুক্ত। পিরান পুরনো শহর, তাই একে সংরক্ষনের জন্য এর ভেতরে ব্যক্তিগত গাড়ি প্রবেশ নিষেধ । আমাদের বহনকারী বাসটি তাই আমাদের শহর এর বাইরে নামিয়ে দিল। ট্যুরিস্টরা গাড়ি বাইরে রেখে হেঁটে বা সংরক্ষিত বাসে চড়ে শহরটি প্রদক্ষিন করতে পারবে। সমুদ্র আর পাহাড় পরতরযকে অপূর্ব সৌন্দর্যময় করে তুলেছে। আমি এমনিতে প্রকৃতি প্রেমিক ধরনের মানুষ। এই সৌন্দর্য আমাকে একেবার সম্মোহিত করে ফেলল । অ্যাড্রিয়াটিক সমুদ্র পাড়ের রেস্টুরেন্টে সামুদ্রিক মাছ দিয়ে আমরা রাতের খাবার সারলাম। রাত মানে ৮ টা বেজেছিল, যদিও সূর্য আকাশেই ছিল!

ডিনার করে আমরা ছোট্ট শহর আইজশিনার (ajdovscina) উদ্দেশে রওনা হলাম। সেখানে আজশিনার ইয়ুথ হোস্টেল এ অবস্থান করলাম। কিশোর- যুবকদের উদ্দেশ্য সব রকমের সুযোগ সুবিধা বজায় রেখে হোস্টেল তৈরি করা হয়েছে। মায়া বলল স্লভেনিয়ার বিভিন্ন মিউনিসিপালটিতে এই ধরনের ইয়ুথ সেন্টার বা হোস্টেল রয়েছে। মূলত ১১ বছর বয়সী থেকে ২৯ বছর বয়সীরা এইসব ইয়ুথ সেন্টার এ এসে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ গ্রহণ করে। এই সেন্টার গুলো কিশোর – যুবকদের শিক্ষা, বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণ ও কর্মসংস্থান এর সুযোগ সৃষ্টি করে। ২১ মে সকালে একসঙ্গে পরিচিত হলাম ফিনল্যান্ড, স্লোভেনিয়া ও নেপালের বন্ধুদের সঙ্গে, এঁদের বেশীরভাগই তাঁদের নিজ নিজ দেশের যুব রাজনীতির সাথে জড়িত রয়েছেন। তাঁদের নিজ নিজ পড়ালেখার পাশাপাশি তাঁরা তাঁদের রাজনীতিতে স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছেন। আইজশিনার ইয়ুথ কাউন্সিল এর প্রতিনিধি আমাদের জানালেন ৭টি যুব সংগঠন মিলে এই ইয়ুথ কাউন্সিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাঁরা যুববান্ধব মিউনিসিপালটি গুলোকে উতসাহিত করার জন্য পুরস্কৃত করে থাকেন । ফলে বিভিন্ন মিউনিসিপালটির মধ্যে যুব উন্নয়ন করার প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

২২ মে ভোরে নাস্তা খেয়েই আমরা সবাই স্লভেনিয়ার পশ্চিমে অবস্থিত নোভা গরিসা (Nova Gorica ) শহরের উদ্দেশে রওনা হলাম। পথিমধ্যে স্লভেনিয়া ও ইটালির সীমারেখায় দাঁড়িয়ে ছবি তুললাম । এখানে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ- ভারতের রক্তাক্ত সীমান্তের কথা মনে পড়ছিল বারবার; যেখানে প্রতিনিয়ত বাংলাদেশিরা ভারতীয় বিএসএফ বাহিনির গুলিতে নিহত, আহত হচ্ছেন। স্লভেনিয়া- ইতালির খোলা সীমান্তে কোন সীমান্ত রক্ষীবাহিনী চোখে পড়লো না!

নোভা গরিসাতে প্রথমে আমরা সেখানকার ইয়ুথ সেন্টার পরিদর্শন করলাম। সেখানে বিনা মূল্যে যন্ত্রসংগীত শেখার, ছবি আঁকার, লেখাপড়ায় সহযোগিতা করার জন্য শিক্ষক ও সব ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। বিভিন্ন ভাবে যুব সমাজ কে সাহায্য সহযোগিতা করে চলেছে এই ইয়ুথ সেন্টার গুলো ।এরপর আমরা গেলাম ই হাউজ অফ এক্সপেরিমেন্ট (E House of Experiment) এ। অল্প বয়সী ছেলে মেয়েরা এখানে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরিক্ষা নিরিক্ষা করে। রোবট থেকে শুরু করে তাদের বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক কর্মকাণ্ড দেখলাম।

এখান থেকে স্লভেনিয়ার রাজধানী ও এই দেশের সবচে বড় শহর উউব্লিয়ানার (Ljubljana) উদ্দেশ্য রওনা হলাম। সেখানে পিস ইন্সটিটিউট (peace Institute) এ ডঃ নেযা কগভসেক(Dr. Neža Kogovšek ) এর সাথে স্লভেনিয়ার পঁচিশ হাজার ছয়শ একাত্তর জন ‘মুছে ফেলা মানুষ’ দের কথা জানলাম । তিনি জানালেন সাবেক যুগোস্লাভিয়ার আর্মি ও স্লভেনিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীর মধ্যে ১০ দিনের গৃহযুদ্ধের পর ২৫ জুন ১৯৯১ এ স্লভেনিয়া স্বাধীনতা লাভ করে। এই সময় ও পরবর্তীতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ এই দেশের সব রেকর্ড থেকে মুছে যায় ।এদের মধ্যে সাবেক যুগোস্লাভিয়ার আর্মি ও তাঁদের পরিবার যাঁদের স্থায়ী ঠিকানা স্লভেনিয়ায় ছিল; তাঁরা স্লভেনিয়ার প্রতি অনুগত নন; এই বলে সে সময় তাঁদেরকে রেকর্ডভুক্ত করা হয়নি। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে সাবেক যুগোস্লাভিয়ার অন্যান্য প্রদেশে বসবাসকারী অথচ যাঁদের স্থায়ী ঠিকানা ছিল স্লভেনিয়ায় তাঁদের নাগরিকত্বের আবেদনের জন্য মাত্র ছয় মাস সময় দেওয়া হয় । যাঁরা এই সময়ের ভেতর আবেদন করতে পারেননি তাঁরা রেকর্ড ভুক্ত হবার অধিকার হারান। এই সব ‘মুছে ফেলা‘ মানুষ গুলো শিক্ষা, চাকরী, কাজ পাবার সুবিধা হতে বঞ্চিত হচ্ছে ; এমনকি এঁদের শিশুরাও ‘ মুছে’ গেছে। এদের সব অস্তিত্ব অস্বীকার করা হয়েছে । ফলে এঁদের মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। বর্তমা্নে যদিও এঁদের সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করা হচ্ছে , তবে গতি অত্যন্ত ধীর । তিনি আমাদের ‘The Scars of the Erasure’ বইটি উপহার দিলেন ; যার মধ্যে এঁদের সম্পর্কে ব্যাপক আলোচনা করা হয়েছে। মাথায় ঘুরছিল ‘মুছে ফেলা মানুষ’ গুলোর কথা! এরপর গেলাম হিউম্যান রাইট্‌স অম্বুডসমান (Human Rights Ombudsman) অফিস এ। এখানে জেনে ভাল লাগল যে স্লভেনিয়া অপশোনাল প্রটকল অফ কনভেনশন এগেইনস্ট টর্চার অনুসাক্ষর করেছে। আমি প্রশ্ন করলাম স্লভেনিয়াতে আইন প্রয়োগ কারী সংস্থার হাতে গড়ে বছরে কতজন নির্যাতন এর শিকার হচ্ছেন? তাঁরা জানালেন একজনও নন! বাংলাদেশের আইন প্রয়োগ কারী সংস্থা ও রাবের হাতে ক্রমাগত নির্যাতিত আহত -নিহত মানুষদের ঘটনা আমার মানসপটে ভাসছিল। মানবাধিকার সংস্থা অধিকার নির্যাতন বন্ধের জন্য সরকারকে দায়বদ্ধ করার জন্য ক্রমাগত জাতিসঙ্ঘের অপশোনাল প্রটকল অফ কনভেনসশন এগেইনস্ট টর্চার অনুসাক্ষর করার জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে, যদিও সরকার এখন পর্যন্ত তা অনুসাক্ষর করেনি! তবে স্লভেনিয়াতে পারিবারিক সহিংসতার অনেক ঘটনা ঘটছে।

বিকেল বেলা শহরটা ঘুরতে বেরুলাম। হাঁটতে হাঁটতে খাড়া পাহাড়ের উপরে উউব্লিয়ানার দূর্গ দেখতে গেলাম। পঞ্চদশ শতাব্দীতে তৈরি এই দূর্গটি মূলত তুর্কি আক্রমণ কারীদের মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে এটি জেলখানা হিসাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পর্যন্ত ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে এই দূর্গটি পর্যটকদের দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে।এরপর গেলাম প্রেসেরেন স্কোয়ার (Prešeren Square ) এ। স্লভেনিয়ার বিখ্যাত কবি প্রেসেরেন এর নামে এই স্কোয়ারটি তৈরি হয়েছে। এখানে তাঁর ও তাঁর প্রেমিকার ভাস্কর্য রয়েছে।কাছেই বুচার্স ব্রিজে বিভিন্ন দেশের প্রেমিক- প্রেমিকারা তাদের ভালবাসার প্রতীক চিহ্ন হিসাবে তাদের নাম খোদাইকৃত তালা (love padlock) ঝুলিয়ে রেখেছে!

২৩ মে সকাল নয়টাতে স্লভেনিয়ান সংসদে সংসদ সদস্য মার্কো পাভ্লিসিক (Marko Pavlišič) সাথে মিটিং হল। তিনি স্লভেনিয়ান তরুণদের বেকারত্বের হার, অর্থনীতি, রাজনীতি ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করলেন। এরপর উউব্লিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্লভেনিয়ার ইতিহাস ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে মুগ্ধ করা আলোচনা করলেন সোশ্যাল সাইন্স এর অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ডঃ টমাজ দেযেলেয়ান ( Dr. Tomaz Dezelan) । তাঁর সঙ্গে কথা বলেই আমরা ছুটলাম ট্রেন ধরতে। যেতে হবে আরেক শহর মারিবর। মারিবর স্লভেনিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। এই তো কিছুদিন আগেই মারিবর এর জনতার প্রতিরোধে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত প্রাক্তন মেয়র ফ্রাঙ্ক ক্যাংগ্লার (Franc Kangler) অপসারিত হন। ২ নভেম্বর ২০১২ তে শুরু হওয়া ফ্রাঙ্ক ক্যাংগ্লার এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করে এবং ২০১৩ সালে আনুষ্ঠানিক ভাবে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ গঠন করা হয়।এই শহরে সুশীল সমাজের বিশিষ্ট নাগরিকদের সাথে কথা হল।

মারিবর এ একরাত থেকে ভেলেনি (velenje) তে আসলাম। ভেলেনির কয়লা খনি যাদুঘর বিখ্যাত । এই যাদুঘর ১৯৫৭ সনে প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৬৬ সনে সর্ব সাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। কয়লা শ্রমিকদের বেশে টুপি, আপ্রন পড়ে মাটি থেকে ১৬০ মিটার নিচে খটখটে লিফট দিয়ে আমরা সবাই নেমে গেলাম খনির ভেতর!অন্ধকাররাচ্ছন্ন পরিবেশে টর্চ নিয়ে আমাদের গাইড এই কয়লা খনির ইতিহাস থেকে শুরু করে বর্তমান অবস্থা বর্ণনা করছিলেন। প্রথম দিকে শ্রমিকদের অবস্থা মোটেই ভাল ছিলনা।১৮৯৩ সালে খনির মিথেন গ্যাস এ দম বন্ধ হয়ে মারা যায় ২৮ জন শ্রমিক। ধীরে ধীরে খনির ও শ্রমিকদের সার্বিক ব্যবস্থা উন্নত করা হয়েছে। ভেলেনি কয়লা খনি নিরাপত্তা ও আধুনিক সুযোগ সুবিধার দিক দিয়ে বিবেচনা করে ইউরোপের প্রথম সারির কয়লা খনির মর্যাদা লাভ করেছে।এইসব দেখতে দেখতে আমাদের দিনাজপুরের বরপুকুরিয়া কয়লা খনি ও সেখানকার শ্রমিকদের কঠিন , বঞ্চিত জীবনের কথা মাথায় ঘুরছিল ।

২৫ মে সকালে ভেলেনিতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এর ইউরোপিয়ান সংসদীয় নির্বাচন দেখতে ছুটলাম। ভাবছিলাম ভোটকেন্দ্র গুলোতে ভোটারদের উপচে পড়া ভিড় দেখব। কিন্তু ভোটকেন্দ্র গুলোর সুমসাম পরিবেশ আমাকে অবাক করল! এদিকে আমরা এশিয়ানরা সকাল থেকে প্রায় মনুষ্যবিহীন বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র ঘুরে বেড়ালাম আর আমাদের ইউরোপিয়ান বন্ধুরা বিকাল থেকে এর ফলাফল গুলো পর্যবেক্ষণ করতে থাকল।বিভিন্ন সংগঠনের ক্রমাগত সচেতনামুলক প্রচারণা থাকা সত্ত্বেও ইউরোপিয়ান সংসদীয় নির্বাচনে অনেক কম ভোটার ভোট দিয়েছে। স্লভেনিয়াতে ২০.৯৬% ভোটার এবার ভোট দিয়েছে।

সাত দিন আমরা সবাই সবার কাছ থেকে কত কিছু জানলাম, শিখলা্ম । মনে হচ্ছিল বাংলাদেশের তরুণদের জন্য এরকম সংগঠন যদি গড়ে উঠত – তবে আমাদের তরুণদের হানাহানি, খুনাখুনির রাজনীতি অথবা নেশার থাবা থেকে মুক্ত করে সৃজনশীল ভাবে গড়ে তুলতে পারতাম! এবার দেশে ফেরার পালা। বিদায় বলতে সবারি কষ্ট হচ্ছিল। বিমানবন্দর যাবার পথে তুমুল বৃষ্টি নেমেছে। মায়া বলল, “আপনারা চলে যাচ্ছেন, তাই আকাশ কাঁদছে”, আমারও মনটা হু হু করে উঠল সাত দিনের অথচ মনে হয় কতদিনের পরিচিত বন্ধুদের জন্য। বললাম “বিদায় বন্ধুরা, বিদায় স্লভেনিয়া”।

(তাসকিন ফাহমিনা একজন মানবাধিকার কর্মী)

Don't Miss A Single Updates

Remember to check your email account to confirm your subscription.

Blogger
Disqus
Post a comment ➜

No Comment